রিভেঞ্জ ৮৪০: একটি অভ্যুত্থানের নেপথ্য দলিল পর্ব ১: ভূমিকা ও কল রেকর্ড রহস্য
রিভেঞ্জ ৮৪০: একটি অভ্যুত্থানের নেপথ্য দলিল
পর্ব ১: ভূমিকা ও কল রেকর্ড রহস্য
লেখক: সাইফুল ইসলাম
(রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব)
ভূমিকা (প্রোলোগ)
তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৪
সময়: বিকেল
দৃশ্যপট: ঢাকা, বাংলাদেশ
বিশ্ব পঞ্জিকায় দিনটি ছিল ৫ আগস্ট। কিন্তু এই দিনটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিভাজন। একপক্ষের কাছে এটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয় ও দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিন; অন্যপক্ষের কাছে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়—যেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আড়ালে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা হয়েছিল।
এই পক্ষের দাবি, ৫ আগস্টের এই দিনটিকে কেউ কেউ চিহ্নিত করতে চান "৩৬ জুলাই" হিসেবে। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিনগুলোতে? পর্দার অন্তরালে কার বা কাদের ইন্ধনে বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট?
পার্ট ১: কল রেকর্ড এবং জল্পনা-কল্পনার শুরু
তারিখ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভারতীয় গণমাধ্যমে ভাইরাল হয় একটি চাঞ্চল্যকর অডিও কল রেকর্ড। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক সাবেক ছাত্রনেতার কথোপকথন সেটি।
শেখ হাসিনা: "আমি পদত্যাগ করে আসি নি। আমি লাশের স্তূপ চাইনি। তাই পরিস্থিতি সামলাতে বিমান বাহিনীর একটি সামরিক বিমানে করে ভারতে অবস্থান করছি। আমি বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি আছি, হুট করে যেকোনো সময় ঢুকে পড়বো।"
এই অডিও প্রকাশের পর থেকেই ৫ আগস্টের পর থেকে পালিয়ে থাকা বা আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার হয়। শুরু হয় নানা রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনা।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে থাকে—যদি পদত্যাগই না করে থাকেন, তবে সেই পদত্যাগপত্র কোথায়? এমনকি জাতিসংঘ থেকে ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আনার জন্য। ঠিক তখনই সামনে আসে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় কল রেকর্ড।
(চলবে... পরবর্তী পর্বে পড়ুন ৫ আগস্টের পূর্বাপর ও নেপথ্য ইতিহাস)

No comments