রিভেঞ্জ ৮৪০: একটি অভ্যুত্থানের নেপথ্য দলিল ​পর্ব ৩ (শেষ পর্ব): চূড়ান্ত অধ্যায়

 

Bangladesh Online Awami Taskforce-BOAT
রিভেঞ্জ ৮৪০, ৩য় পর্ব

রিভেঞ্জ ৮৪০: একটি অভ্যুত্থানের নেপথ্য দলিল

পর্ব ৩ (শেষ পর্ব): চূড়ান্ত অধ্যায়

লেখক: সাইফুল ইসলাম (রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব)

পার্ট ৩: ফ্ল্যাশব্যাক—সেন্ট মার্টিন ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট

​শেখ হাসিনার একটি অতীতের ইন্টারভিউয়ের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়:

​"সাদা চামড়ার লোকেরা আমার কাছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ ৪টি অংশ চেয়েছিল, যেখানে তারা একটি নতুন ইহুদি রাষ্ট্র তৈরি করতে চায়। বিনিময়ে তারা আমার ক্ষমতা স্থায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি—তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা ৫২ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চি জমিও আমি কাউকে দেবো না। এতে যা হওয়ার হবে!"


​এই বক্তব্যের পরেই মার্কিন ও পশ্চিমা নীতিনির্ধারকরা নতুন করে বৈঠক শুরু করেন—কীভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়। তারা খুঁজতে শুরু করেন বাংলাদেশের ভেতরকার কোনো দুর্বল পয়েন্ট এবং এমন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে, যিনি এই নতুন অধ্যায়ের নেতৃত্ব দিতে পারেন।

মার্কিন ও ড. ইউনূসের গোপন বৈঠক:

  • মার্কিন প্রতিনিধি: "আপনি তো এই মুহূর্তে আইনি সংকটে আছেন। বাংলাদেশের কোন ইস্যু ধরে আমরা এগোলে সফল হব বলুন? আমরা শেখ হাসিনাকে হটিয়ে আপনাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান করতে চাই। জাতিসংঘের সব ধরনের সাপোর্ট আপনার পেছনে থাকবে।"
  • ড. ইউনূস: "সাম্প্রতিক সময়ে দেশের যেকোনো আন্দোলন শেখ হাসিনা শক্ত হাতে দমন করেছেন। তবে 'কোটা সংস্কার' নামে ছাত্রদের একটি আন্দোলন এখনও কিছুটা সক্রিয় রয়েছে। ছাত্রদের পুঁজি করে আমরা চাইলে এটি কাজে লাগাতে পারি।"
  • মার্কিন প্রতিনিধি: "তাহলে এই আন্দোলনের প্রধানদের ডাকুন। পরিকল্পনা সাজাই। সরকারবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তিকেও আলাদা আলাদাভাবে ডাকবেন, যেন একজনের পরিকল্পনা অন্যজন না জানে। সবাই একই আন্দোলনে থাকবে, কিন্তু কেউ কারো উদ্দেশ্য জানবে না।"

চূড়ান্ত ষড়যন্ত্রের রূপরেখা

​বৈঠক শেষে ড. ইউনূস তার অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত সহযোগী মাহফুজ আলম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নির্দেশ দেওয়া হয়, ইশারামাত্র যেন তাদের ক্যাডার বাহিনী মাঠে নেমে পড়ে। কোটা আন্দোলনকে বেগবান করতে নুরুল হক নুরসহ অন্যান্য ছাত্রনেতাদের ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়। সব কিছু হবে চরম গোপনীয়তার মধ্যে।

  • বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব: তাদের সাথে গোপন বৈঠক চূড়ান্ত করা হয় যে, আন্দোলন শুরু হলেই তারা দলীয় নেতাকর্মীদের ছাত্রদের সাথে মিশিয়ে দিবে এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।
  • সহিংসতার ব্লু-প্রিন্ট: নূরুল হক নুর, ড. ইউনূস এবং মাহফুজ আলমের যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—কোটা আপিল মামলার রায়ের সুযোগ নিয়ে মাঠে ক্যাডার নামানো হবে। নেতৃত্ব দেওয়া হবে পর্দার অন্তরালে থাকা নিজস্ব লোক দিয়ে। সাধারণ ছাত্র ও অভিভাবকদের উত্তেজিত করতে হবে। প্রয়োজনে নিজেদের লোক দিয়ে কিছু হামলা বা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সরকারের ওপর দোষ চাপাতে হবে।
  • জেল ভেঙে জঙ্গি মুক্তি: শুরুতেই কারাগার ভেঙে চিহ্নিত জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে হবে।
  • চূড়ান্ত আঘাত: সরকার যতই দাবি মানুক না কেন, কৌশলে সারাদেশের লোকজনকে ঢাকায় এনে 'মার্চ টু ঢাকা'র মাধ্যমে বঙ্গভবন ও গণভবন ঘেরাও করে পতন নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিকের ভূমিকা:

এই পুরো প্ল্যান মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একজন নির্দিষ্ট সাংবাদিককে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন মাহফুজ। পরিকল্পনা ছিল—চীন সফর থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে পূর্বনির্ধারিত ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করে শেখ হাসিনাকে ক্যামেরার সামনে কাবু করা এবং সেই ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে জনরোষ তৈরি করা।

​পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক এভাবেই ধাপে ধাপে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। আর এভাবেই রচিত হয় ২০২৪ সালের সেই পটপরিবর্তন, যার নেপথ্য দলিল আজ ইতিহাসের পাতায় "রিভেঞ্জ ৮৪০" নামে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​📥 সম্পূর্ণ লেখাটি একসাথে প্রিন্ট বা অফলাইনে পড়ার জন্য নিচের পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করুন:

[রিভেঞ্জ_৮৪০_পিডিএফ_ডাউনলোড_লিংক বা ফাইল]

No comments

Powered by Blogger.