রিভেঞ্জ ৮৪০: একটি অভ্যুত্থানের নেপথ্য দলিল পর্ব ২: ফ্ল্যাশব্যাক ও নেপথ্যের ঘটনা
![]() |
| রিভেঞ্জ ৮৪০, ২য় পর্ব |
রিভেঞ্জ ৮৪০: একটি অভ্যুত্থানের নেপথ্য দলিল
পর্ব ২: ফ্ল্যাশব্যাক ও নেপথ্যের ঘটনা
লেখক: সাইফুল ইসলাম
(রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব)
পার্ট ২: ফ্ল্যাশব্যাক—৫ আগস্টের পূর্বাপর ও নেপথ্য ইতিহাস
(দৃশ্যপট: গণভবন এবং তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ওভারভয়েসে ভেসে ওঠে শেখ হাসিনার কণ্ঠ।)
শেখ হাসিনা: "বহু আগে থেকেই স্বাধীনতা বিরোধীরা এই পরিকল্পনা করে আসছিল। আমার চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা আমাকে প্রশ্ন করেন—কোটা কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? আমার সেই বক্তব্যকে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বিকৃত করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই শুরু হয় নতুন এক অস্থিতিশীলতা।"
প্রধান প্রধান ঘটনাপ্রবাহ:
- জ্বালাও-পোড়াও এবং কারাগার ভাঙার ঘটনা: সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিলে আন্দোলনকে আরও সহিংস করে তোলা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। নরসিংদীর কারাগারে পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় কুখ্যাত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের।
- সহিংসতা ও প্রাণহানি: পুলিশের ওপর হামলা এবং সুপরিকল্পিতভাবে রংপুরে আবু সাঈদ ও ঢাকায় মুগ্ধকে হত্যার দায় চাপানো হয় সরকার ও পুলিশের ওপর। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা ও সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হয়, এবং ছাত্রদের কোটাসহ সকল দাবি মেনে নেওয়া হয়।
- মার্চ টু ঢাকা: সব দাবি মেনে নেওয়ার পরেও হুট করে নতুন প্ল্যান কার্যকর করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে ঘোষণা করা হয় সরকার পতনের ১ দফা কর্মসূচি—"মার্চ টু ঢাকা"।
- শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত: হাজার হাজার মানুষ যখন গণভবনের দিকে ধেয়ে আসে, তখন নিরাপত্তাকর্মীরা গুলির অনুমতি চান। কিন্তু শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন—তিনি লাশের স্তূপ দেখতে চান না। তিনি বোনকে নিয়ে গোপালগঞ্জে চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে, মেয়ে এবং সেনাপ্রধানের চরম চাপে বাধ্য হয়ে তিনি বিমান বাহিনীর একটি বিমানে দেশত্যাগ করেন।
দেশত্যাগের পরবর্তী চিত্র:
গণভবন উন্মুক্ত করে দেওয়ার সাথেই সাথেই শুরু হয় নজিরবিহীন লুটপাট ও ভাঙচুর। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি, সংসদ ভবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মারক ধ্বংস করা হয়। সারাদেশে থানায় থানায় আগুন, পুলিশ হত্যা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর শুরু হয় পৈশাচিক নির্যাতন।
- নতুন সরকারের অভিষেক: আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির সাজাপ্রাপ্ত আসামি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রস্তাব করে। কোটা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নিজেদের লোকদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বসিয়ে শুরু হয় নতুন সরকার।
জাতিসংঘের অধিবেশন ও গোপন বৈঠকের নেপথ্য চিত্র
জাতিসংঘের ৭৯তম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। গুঞ্জন ওঠে, অন্তর্বর্তী সরকার পদত্যাগপত্র দেখাতে না পারলে সাংবিধানিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে স্থান পেতে পারেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আন্তর্জাতিক আদালতে তাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রমাণের জন্য একাধিক মামলা করেন। স্বয়ং শেখ হাসিনাও মামলা করেন ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (ICJ)।
কিন্তু অধিবেশন শেষে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং এটি যে একটি সুপরিকল্পিত পরিবর্তন ছিল, তা আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্ট করে তোলেন।
গোপন বৈঠকের সংলাপ:
নিউইয়র্ক কিংবা ঢাকার এক গোপনীয় বৈঠক। ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলছেন এক উপদেষ্টা।
- উপদেষ্টা: "স্যার, এতো প্রতিকুলতার মাঝেও জাতিসংঘ আপনার পক্ষে সমর্থন দেওয়ায় বিষয়টি কেমন যেন অলৌকিক মনে হচ্ছে!"
- ড. ইউনূস: (একটি অট্টহাসি দিয়ে) "এটাকেই বলে 'মেটিকিউলাস' (Meticulous)! দেখোনা, সবাই শুধু বলে, আমি চুপচাপ শুনে যাই, কিচ্ছু বলি না।"
- উপদেষ্টা: "স্যার, সমন্বয়করাও এখন আমাদের ওপর একটু রাগান্বিত মনে হচ্ছে।"
- ড. ইউনূস: "আমাদের প্ল্যান সাকসেস! কে রাগলো আর কে হাসলো, সেটা দেখার বিষয় নয়। বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।"
(চলবে... পরবর্তী পর্বে পড়ুন চূড়ান্ত অধ্যায় ও সমাপনী পর্ব)

No comments