কবিতার নাম: "সংগ্রামের সিঁড়ি"
![]() |
| কবিতা- সংগ্রামের সিঁড়ি |
কবিতার নাম: "সংগ্রামের সিঁড়ি"
লেখক: সাইফুল ইসলাম
একাত্তর, বাঙ্গালীর এক অগ্নিগর্ভ ইতিহাস,
বঙ্গবন্ধুর ডাকে ফিরলো বাঙ্গালির নিঃশ্বাস।
মুক্তির মশাল হাতে, গর্জে উঠলো লক্ষ প্রাণের ঢল,
পাক-হানাদারের যত আস্ফালন হলো ব্যর্থ আর নিষ্ফল।
'জয় বাংলা' শব্দে কাঁপলো বাংলার আকাশ-মাটি,
লাখো শহিদের রক্তে কেনা হলো সোনার বাংলা গাঁটি।
লাল সবুজের মানচিত্র পেলাম, পতাকা উড়লো শীর্ষে,
বাঙ্গালী জাগলো, পেলো মুজিবকে পিতার আশীর্বেষে।
কিন্তু ঘরের কোণে ছিল কিছু সর্প-বিষ,
রাজাকার নামে যারা দেশদ্রোহী নিশ।
মা-বোনের ইজ্জত, রক্তে ভেজা হাত,
ক্ষমা দিয়ে বঙ্গবন্ধু ঘুচালেন তাদের পাপ।
ভাবলেন, শুধরানো পথে ফিরুক আপনজন,
কিন্তু ক্ষমাই হলো কাল, হারালো জাতির ধন।
পনেরোই আগস্ট, সেই ঘোর অমানিশা,
ঘাতকের বুলেটে জাতির জনকের ফিসফিসা।
বিশ্বাসঘাতকতার ছুরি, চরম নির্মমতা,
স্তব্ধ হলো ৩২-এর সিঁড়িতে মানবতা।
স্বপ্ন হলো চূর্ণ, জাতি হলো এতিম,
ষড়যন্ত্রের খেলায় রাষ্ট্র হলো ম্লান, সীমাহীন।
তবুও বিধাতা বাঁচালেন দুটি আশা-প্রদীপ,
হাসিনা-রেহানা, জ্বলে আছে সেই টিপ।
বহু পথ পেরিয়ে, দুঃখের কাণ্ডারি,
ফিরে এলেন দেশে, বাবার স্বপ্ন তারি।
শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল, হাতে নিলেন ধরি,
আবার 'জয় বাংলা' শ্লোগানে বাংলা হলো ভারি।
রাজপথ কাঁপালেন, সংগ্রামে অবিরাম,
দেশের উন্নয়নে বিশ্ব নিলো তার নাম।
বিশ্বনেতাদের মাঝে স্থায়ী তার আসন,
দৃঢ়তার পথে তিনি, নেই কোনো বিভাজন।
রোহিঙ্গাদের ক্রন্দন, শুনে ব্যথিত মন,
তিনি দিলেন আশ্রয়, বাঁচালেন কতজন।
তাই বিশ্ব জানাল তাঁরে 'মানবতার জননী',
স্নেহ-মায়া-দয়া তাঁর, তুলনাহীনা তিনি।
কিন্তু হায়, সেই পুরনো হায়নারা জোট বাঁধে,
দেশের উন্নতি দেখে বিদ্বেষের ফাঁদ পাতে।
সুযোগ সন্ধানী তারা, দেশদ্রোহীতার সুযোগ খোজে,
জঙ্গি রাষ্ট্র বানাবে বাংলা, স্বাধীনতার সব মুছে।
'কোটা'র অজুহাতে মিথ্যার দেয়াল গড়ে,
শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া করেছে জবরদস্তি করে।
যারা পাক-দোসর ছিল, সেই বিষবৃক্ষের ফল,
আবার জাতিকে দিয়ে দিলো অন্ধকার জল।
তবু জানি, এ সংগ্রাম বৃথা যাবে না আর,
জনতার শক্তি, পিতার আদর্শের অঙ্গীকার।
শেখ হাসিনা বিরের বেশে ফিরে আসবে আবার,
জয় বাংলা শ্লোগানে রাজপথ হবে মুক্তিকামী জনতার।
শেখ হাসিনার হাতেই বাংলার স্বপ্ন হবে পূর্ণ,
চক্রান্ত হবে ব্যর্থ, বাংলা আবারো হবে স্বর্ণ।।

No comments